ঢাকামঙ্গলবার , ১ জুন ২০২১
  • অন্যান্য

আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবসঃ প্রয়োজন স্বনির্ভরতা

admin
জুন ১, ২০২১ ৪:৫১ পূর্বাহ্ন । ৯১ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


আজ বিশ্ব দুগ্ধ দিবস। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো ব্যাপক কর্মসূচি পালন করছে। দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম দিনে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

প্রাচীনকাল থেকেই দুধ মানুষের অতি প্রিয় পানীয়। শাস্ত্রে দুধকে বলা হয়েছে পৃথিবীর অমৃত। দুধ রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দিয়ে শরীরকে রোগমুক্ত রাখে। দুধে ভিটামিন ‘সি’ ছাড়া শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সবরকমের পোষকতত্ত্ব বিদ্যমান। এছাড়াও প্রাণীজ আমিষের একটি অন্যতম উৎস হল দুধ। দুধ শুধুমাত্র শিশুদেরই খাদ্য নয়, এটি সব বয়সি মানুষেরই একটি অন্যতম উপাদেয় খাদ্য।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী (২০১৯-২০ ক্রমবর্ধমান জিডিপিতে প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১.৪৩ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩.০৪ শতাংশ। জিডিপিতে কৃষিখাতে প্রাণিসম্পদ উপখাতের মোট অবদান ১৩.৪৪ শতাংশ। মোট আমিষের ৮ শতাংশ আসে মাংস ও দুধ থেকে (বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স এসোসিয়েশন)। বর্তমানে এই সেক্টরে বহু বেকার শিক্ষিত যুবক বিনিয়োগ করছে। অনেক প্রবাসীও এই সেক্টরে বিনিয়োগ করেছে। প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে মোট কর্মসংস্থানের ২১ শতাংশ।

২০১০-১১ অর্থবছরে দুধ উৎপাদন হয় প্রায় ২৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন; যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে হয়েছে প্রায় ৯২ দশমিক ৮৩ লাখ মেট্রিক টন । তরল দুধের কনজাম্পশনের উপর ভিত্তি করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশের ১৬ কোটি ৬৬ লক্ষ মানুষের জন্য মাথাপিছু ২৫০ মিলি হিসেবে প্রতি বছর দুধের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন। যদিও বর্তমানে মাথাপিছু ১৭৫ মিলি হিসেবে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১০৬,০০,০০০ মেট্রিক টন।

বিগত বছরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় যে, ধীরে ধীরে আমাদের দেশে দুধ উৎপাদন বাড়ছে। যদিও একটা সময় ছিল যখন উচ্চবিত্ত ছাড়া মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষরা অর্থাভাবে দুধ খেতে পারতোনা। তবে বাস্তবিক অর্থে সেই দিন আর নেই। আগের তুলনায় বর্তমানে মানুষ অনেক বেশি স্বাস্থ্য সচেতন। দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও মানুষের রুচি ও অভ্যাসে এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। যার ফলশ্রুতিতে দেশে দুধের চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ধীর গতিতে হলেও দেশের ডেইরি শিল্পের উন্নয়ন ঘটছে। তবে এই উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার জন্য আমাদের সকলকেই সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় কাজ করতে হবে।

দুধ শুধুমাত্র যে তরল হিসেবে গ্রহণ করা হয় তা কিন্তু নয়। দুধ থেকে তৈরি করা হয় নানা প্রকার দই, ঘি, মাখন, পনির, ঘোল প্রভৃতি পুষ্টিকর খাদ্য । এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার রুচিকর সুস্বাদু খাবার তৈরিতে দুধ ব্যবহৃত হয়। এসব খাবার মানবদেহের জন্য উপাদেয় ও হিতকর। মিষ্টিদই শুক্রবর্দ্ধক, বায়ুনাশক, রক্তপিত্তের শান্তিদায়ক, পুষ্টিকর ও কফনাশক। এছাড়াও দুগ্ধজাত ঘি শরীরের চর্বি সরবরাহের এক শ্রেষ্ঠ উৎস হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।

দুধের এত এত গুণ থাকার পাশাপাশি দেশে এর ব্যাপক চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য আমদানি করতে হচ্ছে। কিন্তু আমরা চাইলেই দেশের অভন্ত্যরীণ উৎপাদন দিয়ে নিজেরাই দুধে স্বনির্ভর হতে পারি। সেজন্য দরকার সরকার ও ডেইরি শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গদের স্বদিচ্ছা।

সময়ের পরিক্রমায় প্রতিবছর পর পর বিশ্ব দুগ্ধ দিবস আসবে আর আমরা সবাই মিলে সেই দিনটি দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে পালন করবো। কিন্তু যদি আমরা সঠিক কর্মপন্থা ঠিক না করে শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জন্য দিবস পালন ও কিছু কর্মসূচীর মাঝে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখি তাহলে আদৌ দুধ নিয়ে তেমন কোন সু সংবাদ শুনতে পারবনা বলে আমাদের বিশ্বাস। তাই সময়ের সাথে সাথে ডেইরি শিল্পের যুগোপযোগী উন্নয়ন ঘটানোর জন্য আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে হাইটেক ডেইরি ফার্ম গড়ে তোলার পাশাপাশি ডেইরি শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশগুলোর পলিসি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। যার মাধ্যমে দেশের ডেইরি শিল্পের কার্যকরী উন্নয়ন সম্ভবপর হবে। আর তখনই বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালন সার্থকতা লাভ করবে। তাই আসুন আজ এই বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে সবাই মিলে আওয়াজ তুলি- আর নয় আমদানি হতে চাই স্বনির্ভর, বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে হোক এটাই মোদের অঙ্গীকার।


একেকেবিডি স্পেশাল ডেস্ক


মতামত / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link