ঢাকাসোমবার , ১৯ এপ্রিল ২০২১
  • অন্যান্য

করোনাকালীন মাছচাষীদের করণীয়

admin
এপ্রিল ১৯, ২০২১ ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন । ১৬৮ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি




করোনাকালীন মাছচাষীদের করণীয়


কভিড-১৯ সারা বিশ্বকে আজ বিরাট একি চ্যালেঞ্জের মধ্যে নিপতিত করেছে। অনেকটা যুদ্ধকালিন অবস্থা, কিন্তু সত্রু অদৃশ্য। মানব সভ্যতা আজ টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষ নানাভাবে প্রভাতি হচ্ছেন , হচ্ছেন ক্ষতির সম্মূখিন। দেশের সাধারণ মানুষের আয় রোজগারে প্রভাব পড়েছে মারাত্বকভাবে। শহরে কর্মহীন শিক্ষিত বেকার মানুষ গ্রামমূখী হতে বাদ্ধ হচ্ছেন । গ্রামে গিয়ে কিছু একটা করে দিন গোজরাতে হবে।

নানা ধরনের কাজের মধ্যে অনেকেই পারিবারিক পুকুরকে বেছে নিচ্ছেন সময় টাকে আয় রোজ গারে কাজে লাগানোর জন্য। সমস্যা হচ্ছে যারা আগে থেকেয় মাছচাষে নিয়োজিত আছেন তাঁরা করোনার সমস্যাটা দীর্ঘায়িত হওয়ায় তারাও ব্যবসায়ে সুবিধা করতে পারছেন না। এর মধ্যে নতুনদের আগমন, উৎপাদন ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও বাজার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাহিদা বৃদ্ধি না পাওয়ায় উৎপাদিত মাছের সঠিক মূল্য থেকে চাষি বঞ্চিত হচ্ছেন বেশ কিছু দিন থেকে। অন্যদিকে যৌক্তিক কারণে মাছের খাদ্যের দাম বাড়ছে ধাপে ধাপে। মাছচাষিদের তাঁর চাষ ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখাটায় এখন বড় প্রশ্নের সম্মূখিন হয়ে পড়েছে। করোনার এ সময়টিকে একটি দূর্যোগ কাল হিসাবে বিবেচনায় নিতে হবে। এ সময় মাছচাষিগণ যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে পারেন :

  • চাষের পুকুরে বিক্রয় উপযোগী মাছ থাকলে সকল মাছ বিক্রয় না করলেও আংশিক আহরণ করে জীবভর কমিয়ে রাখতে হবে, অন্যথায় পুকুরের মাছের ধারণ ক্ষমতার (Carrying Capacity) বাইরে চলে যেতে পারে, মাছের ওজন কমে যেতে পারে এবং মাছ রোগ ব্যাধিসহ অন্যান্য সমস্যায় পড়তে পারে;
  • সম্পূরক খাবার প্রয়োগ কমিয়ে প্রাকৃতিক খাবারের প্রাচুর্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে;
  • মাছচাষের ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে, নিবিড়তা (Intensification) কমিয়ে, পোনা ছাড়ার হার কমাতে হবে এবং তুলনামূলক স্বল্প মূল্যের মধ্যম আকারের মাছ উৎপাদন করতে হবে;
  • মিশ্রচাষের ক্ষেত্রে রুই জাতীয় মাছের সংখ্যা কমিয়ে, থাই সরপুটি ও গ্রাস কার্প এর মজুদ বাড়াতে হবে এবং নিয়মিত কায়িক প্ররিশ্রমে ক্ষুদিপানা, ছোট আকারের ঘাস দিতে হবে মাছের খাদ্য হিসাবে। এ পদ্ধতিতে চাষের খরচ কমে আসবে কিন্ত মাছের বর্ধন ঠিক থাকবে;
  • পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রাচুর্যতা বাড়ানোর জন্য বিঘা প্রতি ৫ কেজি অটোকুড়া, ৫ কেজি চিটাগুড় ও ১৫০ গ্রাম বেকারি ইস্ট একত্রে মিশিয়ে একটি বালতিতে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ২৪ ঘন্টা ভিজিয়ে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। এর মাধ্যমে পুকুরে প্রচুর পরিমাণে জুপ্লাংক্টন উৎপাদন হবে, পুকুরে সম্পূরক খাবারের ব্যবহার কম করলেও মাছ ভাল থাকবে;
  • পুকুর খালি ফেলে রাখা যাবে না কম বিনিয়োগ করেও পুকুরে মাছচাষ কর যায়, সে ধরনের পদ্ধতির মাছচাষ করতে হবে;
  • মাছ পরিবহণে বা মাছচাষ উপকরণ সংগ্রহে সমস্যা, মাছাচাষের পরামর্শ যে কোন প্রয়োজনে স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

লেখকঃ তোফাজউদ্দীন আহমেদ
উপ-পরিচালক
রাজশাহী মৎস্য বিভাগ







Credit: Source link