ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১২ অগাস্ট ২০২১
  • অন্যান্য

কার্প জাতীয় মাছের সাথে গুলশা ও পাবদার মিশ্র চাষ

admin
অগাস্ট ১২, ২০২১ ৯:২৩ পূর্বাহ্ন । ৪৪ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


কার্প জাতীয় মাছের সাথে গুলশা ও পাবদার মিশ্র চাষ পদ্ধতি আমাদের দেশের অনেক মাছ চাষিরাই জানেন না। প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে মাছের উৎপাদন কমায় পুকুরে মাছের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুকুরে চাষ হওয়া মাছগুলোর মধ্যে কার্প জাতীয় মাছ অন্যতম। আজকে চলুন জেনে নিব রুই জাতীয় মাছের সাথে গুলশা ও পাবদার মিশ্র চাষ সম্পর্কে-

রুই জাতীয় মাছের সাথে গুলশা ও পাবদার মিশ্র চাষঃ


সুবিধাসমূহঃ


  • ৫-৬ মাসের মধ্যেই কয়েক ধরণের রুইজাতীয় মাছের পাশাপাশি পাবদা ও গুলশা মাছ বাজারজাত করা যায়।
  • মৌসুমী পুকুর, বার্ষিক পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়ে এ মাছ চাষ করা যায়।
  • এ মাছ চাষে পুকুরের সব স্তরের খাবারের ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
  • শুধু রুইজাতীয় মাছ চাষের চেয়ে অধিক মুনাফা পাওয়া যায়।
  • পাবদা ও গুলশা মাছ সুস্বাদু, তাই বাজার মূল্য অনেক বেশি।

চাষ পদ্ধতিঃ


পুকুর প্রস্তুতিঃ


  • শুকনো মৌসুমে পুকুর থেকে জলজ আগাছা পরিষ্কার ও পাড় মেরামত করতে হবে।
  • ছোট মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুর শুকানো উচিত নয়। তাই বার বার ঘন ফাঁসের জাল টেনা রাক্ষুসে মাছ ও অবাঞ্ছিত প্রাণি অপসারণ করতে হবে।
  • প্রতি শতকে ১-২ কেজি পাথুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে। মাটির গুণাগুণের ওপর ভিত্তি করে চুনের মাত্রা কম-বেশি হয়ে থাকে।
  • পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য জন্মানোর জন্য পোনা ছাড়ার পূর্বে সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রতি শতকে ৪-৬ কেজি গোবর, ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও ১০০ গ্রাম টিএসপি প্রয়োগ করা ভালো।
  • পানির রং সবুজ/বাদামী সবুজ হলে পোনা ছাড়ার উপযুক্ত হয়।

পোনা মজুদঃ


পুকুরে মাছ চাষের সফলতা নির্ভর করে ভালো জাতের সুস্থ, সবল ও সঠিক প্রজাতির পোনা সঠিক সংখ্যায় মজুদের ওপর।

পুকুরে পোনা ছাড়ার আগে পরিবহনকৃত পোনা পুকুরের পানির তাপমাত্রার সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে ১০ লিটার পানি ও ১ চামচ (৫ গ্রাম) পটাসিয়াম পারম্যাংগানেট অথবা ১০০ গ্রাম লবণ মিশিয়ে দ্রবণ তৈরী করে তাতে ১-২ মিনিট গোসল করিয়ে পোনা জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

নিম্নের ছকে বর্ণিত যে কোন একটি নমুনা অনুযায়ী ১০-১২ সেমি. আকারের রুইজাতীয় মাছ ও ৫-৭ সেমি. আকারের পাবদা বা গুলশা মাছের সুস্থ সবল পোনা মজুদ করতে হবে।

কার্প-পাবদা মডেল – ১

মাছের প্রজাতি    সংখ্যা

কাতলা                 ১২

রুই                      ৮

মৃগেল                  ৮

গ্রাসকার্প              ২

পাবদা                 ৭০

মোট                   ১০০

কার্প-পাবদা মডেল – ২

মাছের প্রজাতি    সংখ্যা

সিলভার কার্প       ৮

কাতলা                 ৪

মৃগেল                  ৮

গ্রাসকার্প              ২

সরপুটি                ৮

পাবদা                ৭০

মোট                  ১০০

কার্প-পাবদা-গুলশা মডেল

মাছের প্রজাতি    সংখ্যা

কাতলা                 ৮

রুই                     ১০

মৃগেল                 ১০

গ্রাসকার্প              ২

পাবদা                 ৫০

গুলশা                 ৫০

মোট                 ১৩০

মজুদ পরবর্তী পরিচর্যাঃ


পুকুরে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক খাদ্য রাখার জন্য দৈনিক বা ৭ দিন পর পর নিয়মিত সার প্রয়োগ করতে হয়।

সাধারণ নিয়ম অনুসারে দৈনিক শতক প্রতি ১৫০ গ্রাম গোবর অথবা ৩০০ গ্রাম কম্পোস্ট, ৫ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫ গ্রাম টিএসপি একটি পাত্রে পানির সাথে ১ দিন ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকাল ১০-১১টায় পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

অথবা ৭ দিন/১০ দিন পর পর সার ব্যবহার করতে হলে উপরোক্ত পরিমাণে দিনের গুণিতক হারে সার প্রয়োগ করতে হবে। তবে প্রতিদিন সার ব্যবহার করাই সর্বোৎকৃষ্ট।

জৈব ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে পরিমাণ মত ও নিয়মিত ব্যবহার করলে বেশি উৎপাদন পাওয়া যায়।

সম্পুরক খাদ্য সরবরাহঃ


কার্প-পাবদা-গুলশার মিশ্র চাষে সম্পূরক খাবার হিসাবে ব্যবহৃত খাদ্যোপাদানের পরিমাণ নিম্নে বর্ণিত হলো-

খাদ্য উপাদান    মিশ্রণের হার (শতকরা)

চালের মিহি কুড়া    ৪০%

গমের ভুসি             ২০%

সরিষার খৈল          ২০%

ফিশমিল                ২০%

মোট                     ১০০%

১০-১২ ঘন্টা ভিজানো সরিষার খৈলের সাথে শুকনো গমের ভুসি বা চালের মিহি কুঁড়া মিশিয়ে গোলাকার বল তৈরি করতে হবে।

পুকুরে মজুদকৃত মাছের মোট ওজনের শতকরা ৫-৩ ভাগ হারে দৈনিক খাবার দিতে হবে।

শীতকালে খাবারের পরিমাণ শতকরা ১-২ ভাগ হারে সরবরাহ করতে হবে।

বরাদ্দকৃত খাবার দিনে ২ বার প্রয়োগ করা ভাল।

মাসিক নমুনায়নের মাধ্যমে খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানীর বাণিজ্যিক পিলেট খাবারও মাছকে সরবরাহ করা যেতে পারে।

সতর্কতাঃ


পুকুরের তলদেশে কাদা থাকলে তিকর গ্যাস জমে থাকতে পারে। দড়ির সাথে লোহা বা মাটির কাঠি কিংবা ইট বেঁধে হররা তৈরি করে পুকুরের তল ঘেষে আস্তে আস্তে টেনে তলার গ্যাস বের করে দিতে হবে।


আরও পড়ুনঃ পাঙ্গাস মাছ আহরণ ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় করণীয়


মৎস্য প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link