ঢাকাশুক্রবার , ২০ অগাস্ট ২০২১
  • অন্যান্য

কার্প জাতীয় রেণু পোনার নার্সারি ব্যবস্থাপনায় করণীয়

admin
অগাস্ট ২০, ২০২১ ১:৩৫ অপরাহ্ন । ১১৬ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


কার্প জাতীয় রেণু পোনার নার্সারি ব্যবস্থাপনায় করণীয় সম্পর্কে অনেক মাছ চাষিরাই জানেন না। কার্প জাতীয় পোনা উৎপাদনের জন্য নার্সারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নার্সারি পুকুর এবং রেণু পোনার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব দক্ষতাসম্পন্ন না হলে পোনা উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই সফল ভাবে নার্সারি পরিচালনা জন্য দক্ষতা অত্যাবশ্যক।

কার্প জাতীয় রেণু পোনার নার্সারি ব্যবস্থাপনায় করণীয়ঃ


পুকুর প্রস্তুতিঃ


নার্সারি পুকুরের আয়তন ২০ থেকে ৩০ শতকের আয়তকার হলে ভাল। পুকুরের কালো মাটি ও রাক্ষুসে মাছ অপসারণ করে। মাটির pH দেখে চুন প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত প্রতি শতকে ১ কেজি পাথুরে চুনের শুকনা পাউডার পুকুরের তলা ও বাঁধে সিটাতে হবে। এর পর ১.৫ – ২ ফুট পানি সরবরাহ করে প্রতি শতকে ৮ – ১০ কেজি পঁচা গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। গোবর সার পাওয়া না গেলে শতক প্রতি ২০০ গ্রাম টি. এস. পি এবং ২০০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করা যেতে পারে।

পোকা ও হাসঁ নিয়ন্ত্রণঃ


হাসঁ পোকা রেণু পোনার জন্য খুবই ক্ষতি কর। এই পোকা রেণুকে ধরে কেটে দেয় ফলে পুকুরে রেণুর সংখ্যা ব্যাপক ভাবে কমে যায়, এমনকি সম্পূর্ণ রেণু পোনা ধ্বংস করে দেয় এরা। রেণু মজুত করার এক দিন আগে প্রতি শতকে ৫ – ১০ এম. এল. সুমিথিয়ন প্রয়োগ করতে হবে। আর নার্সারি পুকুরে রেণু থাকা কালীন পোকা দেখা গেলে প্রতি শতকে ৫-৩ এম. এল. সুমিতিয়ন প্রয়োগ করতে হবে।
রেণু মজুত: সাধারণত ১৫ – ২০ দিনের জন্য প্রতি শতকে ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম রেণু মজুত করা যায়।

রেণুর খাদ্যঃ


সাধারণত রেণুর খাদ্য ২ প্রকার। 

১। প্রাকৃতিক খাদ্যঃ প্রাকৃতিক খাদ্য আবার ২ প্রকার। যথা – ক. উদ্ভীদ কনা ও খ. প্রাণী কনা।
রেণু পোনার জন্য এই প্রাকৃতিক খাদ্য অত্যাবশ্যক। রেণু বয়সে এরা প্রাকৃতিক খাদ্য বেশি পছন্দ করে। এই খাদ্য এদের জন্য তখন মায়ের দুধের বিকল্প হিসাবে কাজ করে। প্রাকৃতিক খাদ্য পোনার বৃদ্ধি দ্রুততর করে। জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করে এই খাদ্য পুকুরে সৃষ্টি করা যায়।

২। সম্পূরক খাদ্যঃ

পুকুরে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি খাদ্য কনা পোনার খাদ্য চাহিদা পূরণ নাও করতে পারে, এই জন্য রেণু মজুত এর পর শুরুর দিখে দৈনিক মোট রেণুর ওজনের ৫০% খাদ্য ২ – ৩ বারে প্রয়োগ করতে হবে। এর পর রেণুর সংখ্যা ও খাদ্য গ্রহণের উপর কম বা বেশী করতে হবে। খাদ্য হিসাবে প্রথম ২ – ৩ দিন ড়িমের কুসুম এর পর আটা ও খৈল খাদ্য হিসাবে প্রয়োগ করা যায়।

পোনা কাটাইঃ


১৮ – ২০ দিন বয়সে রেণু ধানি পোনয় রূপান্তরিত হয়। এসময় এদের চারা পুকুরে এস্থানান্তর করতে হয়। এই সময় এদের পাতলা করণ না করলে পোনার মড়ক হয়ে সংখ্যা কমে যায়। চারা পুকুরে ১০০ -১৫০ গ্রাম ধানি পোনা মজুত করা যায়।
নার্সারি পুকুরের পানির গুনাগুণ:
pH – ৭ – ৮

তাপমাত্রাঃ


২৪ – ৩০ ডিগ্রি সেন্টি গ্রেড
অক্সিজেন : ৫ – ৭ mg/L
অ্যামোনিয়া : ০.০১ mg/L এর কম

রোগ জীবাণু ও চিকিৎসাঃ


রেণু পোনার পুকুরে খাদ্য পঁচে পানি নষ্ট হয়, ফলে পুকুরের তলায় বিষাক্ত গ্যাস অ্যামোনিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে অক্সিজেন কমে গিয়ে রেণু মারা যায়। পুকুরের পানি দুষিত হলে রেণু পোনা ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়।


আরও পড়ুনঃ ফলি মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা উৎপাদনে করণীয়


মৎস্য প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link