ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ অগাস্ট ২০২১
  • অন্যান্য

ছাগল মোটাতাজাকরন

admin
অগাস্ট ১৭, ২০২১ ২:২৬ অপরাহ্ন । ১৬১ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি

ছাগল মোটাতাজাকরন গরু বা ভেড়ার মত নয়। ফুড কনজাম্পশন রেশিও গরু বা ভেড়ার তুলনায় ছাগলের কম। সে জন্য ছাগলকে মোটাতাজাকরন করতে চাইলে তাদের খাদ্যাভাসের দিকে নজর দিয়ে খাবার ম্যানু প্রস্তুত করতে হবে। কারন ছাগল ব্রাউজিং প্রাণি আর গরু এবং ভেড়া গ্রেজিং প্রাণি। ব্রাউজিং হলো যে প্রাণি মাথা উচু করে টেনে হিছড়ে খেয়ে থাকে। আর গ্রেজিং প্রাণি হলো যারা মাথা নিচু করে ছোট সহ যেকোন ঘাস খেতে পছন্দ করে। তাই ছাগল মোটাতাজাকরন করতে চাইলে লিগুম জাতীয় ঘাস সহ, লতা পাতা খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সাথে দানাদার খাবার ততটুকু পরিমান দিতে হবে যাতে করে খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে। এখন দানাদার কতটুকু দিবেন এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কি জাতীয় ছাগল পালছেন আর তার দৈনিক বৃদ্ধিহার কত। একটি সুস্থ্য সবল ছাগল তার ওজনের ৮-১০% খেয়ে থাকে।

তাই খাবার ম্যানুতে কম পক্ষে ৯০% দরকার লিগুমসহ কাঁচা ঘাস, লতা পাতা, গুল্ম ইত্যাদি, ১০% দানাদার সাথে মিনারেল, এটা একটা রাফ হিসাব আমদের দেশি ছাগলের জন্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো কেউ যদি এই বিশ্বাসে খামার করে যে, ছাগল যা পায় তায় খায়, যে কোন খাবার দিয়ে বা একটি মাত্র ঘাস সাথে কিছু দানাদার দিয়ে ছাগল পালা যাবে তাহলে সে খামারী সফলতার মুখ দেখবে কিনা সন্দেহ আছে।
গবাদী মোটা তাজা করণে যে বিষয় গুলি আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবেঃ
১.মোটা তাজা করার আগে যেন রোগে আক্রান্ত না হয় সেজন্য ভ্যাকসিনেশন করাঃ-এব্যাপারে ভ্যাকসিন প্রয়োগ অধ্যায় দেখুন।
২.কৃমিমুক্ত করণঃ-এব্যাপারে কৃমি ঔষধ প্রয়োগ অধ্যায় দেখুন।
৩.দুর্বলতা দুরীকরণঃ-দুর্বলতার জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্স জাতীয় ইনজেকসন প্রয়োগ করতে পারেন। অবশ্যই ব্যবহার বিধি দেখে করবেন।

৪.যকৃত সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখাঃ-এর জন্য বাজারে বিভিন্ন কোম্পানীর লিভার টনিক পাওয়া যায় যেমন রেনালিভ ৫ দিনের একটা ডোজ করে ব্যবহার বিধি দেখে খাওয়াতে পারেন।
৫.রুচি বৃদ্ধি করণঃ-এক্ষেত্রে এনারা,রুচিম্যাক্স ইত্যাদি ঔষধ ব্যবহার বিধি দেখে খাওয়াতে হবে।
৬.হজমশক্তি বৃদ্ধিকরণঃ-এ ক্ষেত্রে জাইমোভেট,বভি প্লাস পাউডার ব্যবহার বিধি দেখে খাওয়াতে হবে।
৭.মেটাবলিজম বৃদ্ধিকরণঃ-
মেটাবলিজম কি?
প্রাণিদেহে জীবন্ত কোষগুলিতে যে রাসায়নিক চেন্জগুলি হয় এর ক্রিয়া-বিক্রিয়াকে আমরা বলি মেটাবলিজম।

মেটাবলিজমের কারণে প্রাণিদেহ টিকে থাকে ও বেড়ে ওঠে। দেহের গঠন ঠিক থাকে, পুনরুৎপাদনে সক্ষম হয় এবং পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। বয়স ও লিঙ্গভেদে মেটাবলিজমের হার ভিন্ন হয়। এমনকি ওজনও মেটাবলিজমের হার ঠিক করে দেয়। স্বাস্থ্যকর মেটাবলিজম যথাযথ পুষ্টির ওপর নির্ভর করে।
মেটাবলিজমের প্রধান তিনটা উদ্দেশ্য হলো:
১. খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা।
২. প্রোটিন, লিপিড, নিউক্লিইক এসিড ও কিছু শর্করা ধরনের খাদ্যকে দেহ গঠনের ব্লকে পরিবর্তিত করা; এবং
৩. দেহ থেকে নাইট্রোজেন ধরনের উপাদানকে বর্জ্য হিসাবে অপসারিত করা।
পশুর ক্ষেত্রে বিটাফসফেন আই এন এন ১০০ ও সায়নোকোবালামিন বিপি যুক্ত ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটা শিরা অথবা চামড়ার নিচে ইনজেকসন প্রয়োগ করতে হয়। দেওয়ার সময় অবশ্যই ব্যবহার বিধি দেখে নেবেন।
৮.মান সন্মত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ ঃ-অবশ্যই আপনাকে গরু বা ছাগলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পুরণে সক্ষম হবে এমন খাবার সরবরাহ করতে হবে। দানাদার,লতাপাতা,ঘাস,ভিটামিন প্রিমিক্স ইত্যাদি দ্বারা পুষ্টির প্রয়োজনিতা পুরণ করতে হবে।
৯.হাড়ের গঠন সুগঠিত শক্তিশালী করণঃ- এক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসসরাস যুক্ত মিনারেল ৭ দিনের ১টা ডোজ করে ব্যবহার বিধি দেখে খাওয়াতে পারেন।
১০.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণঃ- যে সকল ভিটামিন দ্বারা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি হতে পারে তা হলোঃ-

১. এ ডি৩ ই।
২.ভিটামিন ই ও সেলেনাইট।
৩.জিংক জাতীয় ঔষধ খাওয়াতে পারেন। এ গুলিকে একটি নিয়ম করে খাওয়তে পারেন। যেমন প্রথমটি ৩ দিন তারপর দ্বিতীয়টি ৩দিন তারপর তৃতিয়টি ৭দিন ব্যবহার বিধি দেখে খাওয়াবেন।
খাসী পালনে সুবিধা:
১. ঝামেলা কম, খরচও তূলনামূলক ভাবে কম।
২. অনেক কম পুঁজিতে খাসী পালন প্রকল্প শুরু করা যায়।
৩. যেকোনো সময় বিক্রি করে দেওয়া যায়।
৭. একটু সচেতন হলে খাসী সংগ্রহ করা খুবই সহজ।
ব্ল্যাক বেঙ্গলঃ নং ওয়ান ছাগল যত্ন নিলে রত্ন মিলে .খুব বাজে খাবার ব্যাবস্থায় এবং আবহাওয়ায় খাপ খাওয়াতে ওস্তাদ । পুরুষ ছাগল ২৫-৩০ কেজির মতো ওজনের অধিকারী হয়,কোন কোন ক্ষেত্রে এর বেশিও হয়। এদের শরীরের কাঠামো শক্তপোক্ত এবং পেশিবহুল।
যারা ব্ল্যাক বেঙ্গল খাসি বা অন্য জাতের খাসি মোটাতাজা করনের জন্য ক্রয় করবেন অবশ্যই ২ দাতের খাসি ক্রয় করবেন।রোগা কিন্তু অসুখ নয় চামড়া ঢিলা।

আমার খামারে একই বয়সের ব্ল্যাক বেঙ্গল পাশপাশি ক্রস খাসি পালন করে দেখেছি । তুলনা মুলক ক্রস খাসি গুলি ব্ল্যাক বেঙ্গলের চেয়ে অনেক বেশি খায়। ব্ল্যাক বেঙ্গল বাড়তে চায়না যেন ওর বডি কোন অদৃশ্য সিগন্যালের অপেক্ষায় আছে । সিগন্যাল পেলেই যাদুর মত দিনে দিনে পরিবর্তন হতে শুরু করে । ছাড়িয়ে যায় ওদের অন্যজাতের সঙ্গিদের, বাণিজ্যিক ভাবে চাহিদাও খুব বেশি মুল্যও দেয় বিক্রয়ের সময়। এবারও ৫টি ক্রস ৫টি ব্ল্যাক বেঙ্গল রেখেছি পরিক্ষা চালাচ্ছি।
বারবারিঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৩০-৩৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৩৫-৪০ কেজি।
বোয়রঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ ১১০-১৩৫ কেজি (২৪০-৩০০ পাউন্ড) ওজন হয়। এবং পরিপক্ক ডো প্রায় ৯০-১০০কেজি (২০০-২২০ পাউন্ড) হয়। এদের প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন বাড়ে যা কিনা ৩ মাসে ৩০থেকে ৩৬ কেজি ওজন পর্যন্ত হয়ে থাকে। খুব বাজে খাবার ব্যাবস্থায় ও এরা ১৫ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে ৩ মাসে।

যমুনাপারিঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৪৫-৬৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৬৮-৯০ কেজি।
বীটালঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৩০-৩৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৪৫-৫০ কেজি।
সিরোহীঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৩০-৩৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৪৫-৫০ কেজি।
সোজাতঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৩০-৩৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৪৫-৫০ কেজি।
মাওলাঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৩০-৩৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৪৫-৫০ কেজি।
তোতাপারিঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের গড় ওজনঃ স্ত্রী ছাগল ৪৫-৬৫ কেজি এবং পুরুষ ছাগল ৬৮-৯০ কেজি। তোতাপারি নিজেই ক্রস জাতের।

(আদর্শ ছাগল পালন গইড থেকে)

তথ্যসূত্রঃ লিংক



Source link