ঢাকাসোমবার , ২৪ মে ২০২১
  • অন্যান্য

ত্রিশালে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মহিষ পালন, স্বাবলম্বী হচ্ছেন খামারিরা

admin
মে ২৪, ২০২১ ১০:০১ পূর্বাহ্ন । ৮৯ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


আজহারুল ইসলাম তুষার, ময়মনসিংহঃ ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মহিষ পালন। এছাড়াও মহিষ পালনে আগ্রহ বাড়ছে উপজেলার প্রান্তিক খামারিদের। স্থানীয় বাজারসহ দেশে মহিষের দুধ ও মাংসের বিশেষ চাহিদা ও বাজারমূল্য ভাল থাকায় লাভবান হচ্ছেন। এতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের সুত্রমতে, উপজেলায় প্রায় ১২০০ মহিষ পালন করা হয়। এছাড়াও ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০ জন মহিষ খামারি রয়েছেন। উপজেলার কানিহারী,  ধানীখোলা, মঠবাড়ী ইউনিয়নসহ অন্যান্য ইউনিয়নের অসংখ্য মানুষ মহিষ পালনে জড়িয়ে পড়েছেন। এছাড়াও সম্প্রতি উপজেলায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের মহিষ উন্নয়ন প্রকল্ল (২য় পর্যায়) এর আওতায় ৩০ জন খামারিকে মহিষ পালন বিষয়ক উন্নতর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মহিষের জাত উন্নয়নের জন্য ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

মহিষ খামারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ১৮ টি মহিষ দিয়ে একটি খামার প্রতিষ্ঠা করেছি। ইতোমধ্যে ৮ টি মহিষে দুধ দিচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ লিটার দুধ পাচ্ছি।  প্রতি লিটার ১০০ টাকা দরে বিক্রয় করি। এতে ভালো টাকা আয় থাকে। মহিষ পালনের মাধ্যমে আজ আমি স্বাবলম্বী বলেও তিনি জানান।

মহিষ খামারী জুবায়ের আহম্মেদ বলেন, মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর মাধ্যমে সরকার ভর্তুকী মূল্যে উন্নত জাতের মোরাহ্ মহিষের ষাড় দেওয়ায় বাতের মহিষের ন্যাচারাল কৃত্রিম প্রজনন সম্ভব হয়েছে। মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা করায় আমাদের মহিষ পালনে এখন অনেক সুবিধা পাচ্ছি।

শাকিল মিয়া বলেন, আমরা ছয় মাস মহিষ ত্রিশালে রাখতে পারি বাকি ছয়মাস ঘাস ও মহিষ চরানোর জায়গার অভাবে হাওরে নিতে হয় যাতে করে প্রতি বছর অনেক মহিষ রোগাক্রান্ত হয়ে বাছুর সহ অনেক মা মহিষ মারা যায়। যার ফলে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকি। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা  ডাঃ হারুন অর-রশিদ বলেন, বর্তমান সময়ে মহিষ পালন  একটি লাভজনক পেশা। বাংলাদেশ সরকারের মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর মাধ্যমে হাতে কলমে ত্রিশালের মহিষ খামারিরা প্রশিক্ষণ গ্রহন করার ফলে বর্তমানে অনেক খামারি সচেতন হয়েছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় মহিষ পালনে মহিষের কৃত্রিম প্রজনন, মহিষ খামারিদের মাঝে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কৃমিনাশক, ভ্যাক্সিন সহ প্রয়োজনীয় সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি যেকোন প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে পারে,মহিষের মাংসের ক্ষতিকর চর্বি থাকে না,অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় এই মাংসে ৪০% কম কোলেস্টেরল, ৫৫% কম ক্যালোরি , ১১% বেশি প্রোটিন এবং ১০% বেশি খনিজ পদার্থ থাকে। এছাড়াও মহিষ তুলনামূলকভাবে অনেক বছর বেঁচে থাকে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে মহিষের অবদান অনস্বীকার্য । মাংস ও দুধ উৎপাদনের মাধ্যমে অবদান রাখছে। এর ফলে ত্রিশালে খামারিরা দিন দিন মহিষ পালনে উৎসাহিত হচ্ছে।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডাঃ তানজিলা ফেরদৌসী বলেন,  নিয়মিত মহিষের খামার পরিদর্শন এবং বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।  উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ মহিষ পালনে খামারিদের সামগ্রিক সহযোগিতা করে আসছে।

Credit: Source link