ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ জুলাই ২০২১
  • অন্যান্য

নরসিংদীতে লটকন চাষে তোতা মিয়ার বাজিমাত; আয়ের ত্রিশ লাখে বানালেন বাড়ী!

admin
জুলাই ২৯, ২০২১ ৩:২৬ পূর্বাহ্ন । ৭২ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


পরিত্যক্ত জমিতে লটকন চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদীর অর্জুনচর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন তোতা মিয়া। ইতোমধ্যে লটকন চাষে লাখপতি হওয়ার পাশাপাশি লটকন বিক্রির আয় দিয়ে ৩০ লাখ টাকা খরচ করে নিজের জন্য একটি বাড়ী বানিয়েছেন। তোতা মিয়ার এমন সাফল্যে প্রতি বছরই এখানে বাড়ছে বাগানের সংখ্যা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ১৫ হেক্টর জমিতে লটকনের চাষ হচ্ছে। উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া লটকন চাষের উপযোগী হওয়ায় দিন দিন এলাকার কৃষকদের মাঝে লটকন চাষের চাহিদা বাড়ছে। উপজেলা কৃষি অফিষ থেকে প্রতি বছর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আদর্শ ফলবাগান প্রকল্পের আওতায় ফলবাগান করতে লটকন বাগানের প্রদর্শনী দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ২০০৬ সালে তিন বিঘা জমিতে ১৬০ টি গাছ রোপণ করে লটকনের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেন তোতা মিয়া। পরবর্তীতে ৪ বছর পর থেকে লটকন বিক্রি শুরু হয়। প্রথম চার বছরে গড়ে ২৫ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করলেও পরবর্তী প্রতি বছরে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রি করে আসছেন। 

তোতা মিয়া বলেন, ১৫ বছর আগে লটকনের চাষ শুরু করি। প্রথমদিকে লটকনের চাহিদা ও দাম তেমন একটা না থাকায় লাভবান হতে পারিনি। কিন্তু বর্তমানে দেশে লটকনের ব্যাপক চাহিদা ও দাম ভাল থাকায় প্রতিবছর বাগান থেকেই আয় হয় প্রায় ৫ লাখ টাকা।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর পরিচর্যায় খরচ খুব একটা হয়না। সর্বোচ্চ ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয়।এছাড়াও পাইকাররা বাগান থেকে প্রতি মণ লটকন দু-হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দরে কিনে নেন। লটকন বিক্রির আয় থেকে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও তিনি জানান।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জানান, লটকন উচ্চ সমতল সব ধরনের জমিতেই জন্মে। এক সময়ের পরিত্যক্ত ভূমি ও ছায়াযুক্ত ভূমি যা চাষাবাদের অযোগ্য সেখানে এখন লটকন চাষ করে তার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে। আগে গ্রামে-গ্রামান্তরের কোনো কোনো বাড়িতে কদাচিৎ লটকন গাছ দেখা যেত। চাহিদা তেমন ছিল না বলে কেউ এটিকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের কথা চিন্তা করতো না। মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে প্রচুর ক্যালোরি, একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে ফলের মূল্যও। মাটি ও জাতগুণে লটকনের মধ্যে টক ও মিষ্টি দুই প্রকারেই পাওয়া যায়।

মনোহরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার জানান, খাদ্য ও পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় দেশে লটকনের চাহিদা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। যারফলে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন। লটকনের চাষ বৃদ্ধিতে চারা ও সার কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

Credit: Source link