ঢাকাশুক্রবার , ১৫ অক্টোবর ২০২১
  • অন্যান্য

পুকুরে মাছের পোনা ছাড়ার পর পরিচর্যায় করণীয়

admin
অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৬:৩৩ পূর্বাহ্ন । ১১৯ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


পুকুরে মাছের পোনা ছাড়ার পর পরিচর্যায় করণীয় কি সে বিষয়ে আমাদের দেশের অনেক মাছ চাষিরাই জানেন না। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের প্রাকৃতিক উৎসগুলোতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে পুকুরে ব্যাপকহারে মাছের চাষ করা হচ্ছে। পুকুরে মাছ চাষের জন্য পোনা ছাড়ার পরে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে হয়। আজকের এই লেখায় আমরা জেনে নিব পুকুরে মাছের পোনা ছাড়ার পর পরিচর্যায় করণীয় সম্পর্কে-

পুকুরে মাছের পোনা ছাড়ার পর পরিচর্যায় করণীয়ঃ


মাছ চাষের জন্য পুকুরে পোনা ছাড়ার পরে পরিচর্যার জন্য বেশ কিছু কাজ করতে হয়। নিচে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-

পুকুরে সার প্রয়োগঃ


মাছ চাষ করার জন্য সার প্রয়োগের মাত্রা সব পুকুরে এক রকম নয়। সেজন্য সার প্রয়োগের আগে পানি ও মাটির গুণাগুণ সঠিকভাবে পরীক্ষা করে নিতে হবে। একই সাথে পুকুরে উৎপন্ন প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাণ কতটুকু তার উপরেও পুকুরে সার প্রয়োগ অনেকটাই নির্ভর করে থাকে। এর জন্য সেচি ডিস্ক ব্যবহার করে জলের স্বচ্ছতা নির্ণয় করে সার প্রয়োগ করা উচিত।

সাধারণত মাছ চাষের পুকুরে মাছ ছাড়ার ১৫ দিন পর পর অজৈব ও জৈব সার ব্যবহার করা হয়। পুকুরে প্রতি মাসে বিঘা প্রতি ইউরিয়া ৪ থেকে ৫ কেজি ও সিঙ্গল সুপার ফসফেট ৫ থেকে ৬ কেজি এবং গোবর ১০০ কেজি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। পুকুরে জলের রং যদি ঘন সবুজ বা হলতে বাদামি হয় এবং জলের স্বচ্ছতা যদি ২৫ সেন্টিমিটারের নীচে নেমে আসে তবে অজৈব সার প্রয়োগ না করাই ভাল।

এতে পুকুরে শৈবাল আধিক্য হয়ে পুকুরের পরিবেশ নষ্ট করবে। পুকুরের পরিপূরক খাদ্য ব্যবহার করা হলে এর কিছু অংশ নষ্ট হয়ে পচে পুকুরে সারের কাজ করে। তাই পুকুরে ৫ থেকে ৬ মাস মাছ চাষের পর সার প্রয়োগের মাত্রার উপর নজর দিতে হবে। সারের সুফল ভালো ভাবে পেতে হলে উদ্ভিদকণা ও প্রাণীকণার জীবনচক্রের উপর ভিত্তি করে এবং সেচি ডিস্কের দ্বারা জলের স্বচ্ছতা নির্ণয় করে ৭ থেকে ১০ দিন পর পর খুব হালকা মাত্রায় সার প্রয়োগ করা উচিত। কিন্তু এটা পুরোপুরি নির্ভর করে চাষির অভিজ্ঞতার উপর।

চুন প্রয়োগঃ


প্রতি সপ্তাহে পুকুরের পিএইচ দেখে চুন প্রয়োগ করা ভালো। সাধারণত মাসে বিঘা প্রতি ৫ – ১০ কেজি হারে চুন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সার প্রয়োগের ২ – ৩ দিন আগে এক বার চুন প্রয়োগ করে পুকুরের অ্যালকালিনিটির মাত্রা বাড়িয়ে নিলে সারের সুফল তাড়াতাড়ি আসে। চুন প্রয়োগের পর জাল টেনে চুন ঘেঁটে দিলে ভালো হয়।

জাল টানাঃ


১৫ দিন অন্তর এক বার করে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং সংগৃহীত মাছকে লবণ জলে কয়েক সেকেন্ড ডুবিয়ে আবার পুকুরে ছেড়ে দিতে হয়। জাল টানার ফলে মাছের ব্যায়ম হয়।

পরিপূরক খাদ্য পরিবেশনঃ


পুকুরে মাছের বৃদ্ধি দ্রুত করার জন্য প্রত্যেক দিন পরিপূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হয়। চালের কুঁড়োর সাথে সরিষ, বাদাম, তিলের মধ্যে যে কোনও এক প্রকার খোল সমান পরিমাণে মিশিয়ে মাছের খাদ্য তৈরি করতে হবে। সাধারণত সরষের খোল ও চালের কুঁড়ো সমহারে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেক দিন মাছের খাদ্যের পরিমাণ এমনভাবে নির্দিষ্ট করতে হয় যাতে খাদ্যের পরিমাণের সাথে মাছের বৃদ্ধির একটা সমতা থাকে।


আরও পড়ুনঃ পুকুরে মাছ বড় না হওয়ার কারণসমূহ


মৎস্য প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link