ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৯ এপ্রিল ২০২১
  • অন্যান্য

বাউ ধান-৩ আগাম, উচ্চ ফলনশীল ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী ব্রি ধান ২৮ এর বিকল্প জাত

admin
এপ্রিল ২৯, ২০২১ ১১:৪০ পূর্বাহ্ন । ৯১ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু, বাকৃবি: বাংলদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কতৃক উদ্ভাবিত বোরো ধানের উচ্চ ফলনশীল জাত ‘বাউ ধান-৩ এর শস্য কর্তন ও ফলন মূল্যায়ন’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে , কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম, বলেন, বাউ ধান-৩ জাতটি বোরো মৌসমের জনপ্রিয় ও প্রচলিত ব্রি ধান২৮ এর মত আগাম।

ব্লাস্ট রোগের আক্রমন হয় না । প্রচলিত ব্রি ধান২৮ থেকে বাউ ধান৩ এর বেশি ফলন (হেক্টর প্রতি প্রায় ১ টন) । বাউ ধান৩ এর জীবনকাল ব্রি ধান২৮ এর সমসাময়িক (বাউ ধান৩-১৪১, ব্রি ধান২৮-১৩৭ দিন)। এ ধানে চিটা কম। সেহেতু এ জাতটি বোরো মৌসুমে প্রচলিত ও জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান২৮ এর বিকল্প ও পরিপুরক হিসেবে নির্বাচন করা যাবে। তিনি আরও বলেন বাংলাদেশে জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, জমি কমছে,থাদ্য শস্যোর চাহিদা বাড়ছে, এর ফলে ফসলের উপাদন বাড়ানোর কোন বিকল্প নাই।

২৯ এপ্রিল, ২০২১ দুপুরে `বোরো ধানের উচ্চ ফলনশীল জাত ‘বাউ ধান-৩ এর শস্য কর্তন ও ফলন মূল্যায়ন’ উপলক্ষে অনলাইন আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাকৃবি খামার ব্যবস্থাপনা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান খামার তত্ত¡াবধায়ক প্রফেসর ড. মোঃ রমিজ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম, সিনিয়র সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. অমিতাভ সরকার, চেয়ারম্যান, বিএডিসি, জনাব মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, জনাব মোঃ আসাদুল্লাহ, মহাপরিচালক, ডিএই ও ড. শাহজাহান কবীর, মহাপরিচালক, বিআরআরআই।

অনুষ্ঠানে বাউরেস এর পরিচালক প্রফেসর ড. আবু হাদী নূর আলী খান এর সভাপতিত্বে শস্য কর্তন ও মূল্যায়ন বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউ ধান-৩ এর উদ্ভাবক বাংলদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

বাউ ধান-৩ এর উদ্ভাবক বাংলদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যায়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন বাউ ধান ৩ বোরো মৌসুমের আগাম জাতের উচ্চফলনশীল ধানের একটি নতুন জাত। বাউ ধান৩ কৌলিক সারিটি এসিআই লিমিটেড কর্তৃক ২০১৫-১৬ সালে চচচ এর মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা ইসষ্টিটিউট, ফিলিপাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়। একই বছরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত¡ ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগ কর্তৃক বোরো মৌসুমে গবেষণা শুরু করা হয়।

পরবর্তীতে উক্ত কৌলিক সারিটি ২০১৬-১৭ সালে বোরো মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে, ২০১৭-১৮ সালে চারটি স্থানে এবং ২০১৮-১৯ সালে দেশের পাঁচটি স্থানে কৃষকের জমিতে এর আঞ্চলিক ও ফলন উপযোগিতা যাচাই করা হয়। পর পর তিন বছরেই প্রচলিত চেক জাত ব্রি ধান২৮ জাতের চেয়ে ফলন বেশি, সন্তোজনক এবং চাষাবাদ উপযোগী হওয়ায় কৌলিক সারিটি জাত হিসেবে চুড়ান্ত ভাবে নির্বাচন করা হয়। এ জাতের ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা। পাতার রং সবুজ। গাছের কান্ড শক্ত ও মজবুত ফলে গাছ ঢলে পড়ে না। এ জাতের ধান পাকা অবস্থায় শীষ থেকে ঝরে পড়ে না।

মোটামুটি প্রধান প্রধান রোগ বিশেষ করে নেক বøাষ্ট প্রতিরোধে সক্ষম।১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন ২৫ গ্রাম এ জাতের জীবনকাল ১৪০-১৪৫ দিন যা ব্রি ধান২৮ চেয়ে ৩-৫ দিন বেশি তাই বলা যায় এটি ব্রি ধান২৮ এর সমসাময়িক।

Credit: Source link