ঢাকাবুধবার , ১৮ অগাস্ট ২০২১
  • অন্যান্য

বিভিন্ন জাতের ছাগল পরিচিতি – ছাগল পরিচিতি

admin
অগাস্ট ১৮, ২০২১ ৫:১৫ অপরাহ্ন । ১১৭ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি

ছাগল ভারতীয় উপমহাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি গৃহপালিত পশু। আমাদের দেশে ও অন্য অনেক দেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়ের অন্যতম একটি উৎস ছাগল। উল্লেখ্য যে এদেশের ছাগলের অধিকাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের। তবে পৃথিবীতে প্রায় তিনশ প্রজাতির ছাগল আছে। এসব ছাগলের মধ্যে গঠন, রূপ-বৈচিত্রে রয়েছে অনেক ভিন্নতা। এদের মধ্যে কারো দাম আকাশচুম্বী, কাউকে আবার রাখতে হয় ব্যাপক যত্নে, কেউ আবার বদরাগী, কেউ আবার কোনো দেশের জাতীয় পশুও, কেউ কেউ আবার বিলুপ্ত হতে হতে বিপন্ন পশুওর তালিকায়।

১। মারখোরঃ

মারখোর ছাগল

ফার্সি ভাষায় ‘মার’ শব্দের  অর্থ ‘সাপ’, খোর শব্দের  অর্থ ‘ভক্ষক’। এই দুইটি শব্দ মিলে মারখোর শব্দটি তৈরি হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায় এই ছাগলেরা সাপ খায়! কিন্তু সম্ভবত তা নয়। এরা সাপ মারতে পারে বলে এদের এমন নাম হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। কারাকোরাম ও পশ্চিম হিমালয়ে এদের দেখতে পাওয়া যায়। এরা ছড়িয়ে আছে আফগানিস্তান, উত্তর পাকিস্তান, দক্ষিণ তাজিকিস্তান, দক্ষিণ উজবেকিস্তান, ভারতের জম্মু ও কাশ্মী্রের পাহাড়ি এলাকায়। পাকিস্তানের জাতীয় পশু এই ‘মারখোর’ ছাগল। তবে এটি নির্বিচারে শিকার করার জন্য আজ এটিকে বিপন্ন পশুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীতে এই প্রজাতির আর মাত্র ২৫০০টির মত ছাগল টিকে আছে।

২। আইবেক্সঃ

আইবেক্স ছাগল

আইবেক্স ছাগল

আফ্রিকা এশিয়া ও ইউরোপ মহাদেশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দেখতে পাওয়া যায় আইবেক্স প্রজাতির ছাগল। এর বাঁকানো শিং-ই এর পরিচয় বহন করে এবং এই শিং-ই এটির মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ঘরের শোভা বাড়ানোর জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এদের শিকার করে মাথা দরজার ওপরে টাঙিয়ে রাখার প্রচলন ছিল। উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে এরা দলবেঁধে থাকতে পছন্দ করে।

৩। আঙ্গোরাঃআঙ্গোরা ছাগল

আঙ্গোরা ছাগল

আঙ্গোরা ছাগল তুরস্ক থেকে মধ্য আনাতোলিয়া অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। মাংস ও উলের জন্য এই ছাগল পোষা হয়ে থাকে। প্রত্যেক বছরে এরা কেজি পাঁচেক উল দেয়। এরা খুবই শান্ত প্রকৃতির হয়। মানুষের সঙ্গ খুবই পছন্দ করে। তবে এদের খুব আদর-যত্নে রাখতে হয়। সামান্য কিছুতেই এরা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

৪। আবাজাঃ

আবাজা ছাগল

উত্তর-পূর্ব তুরস্কে দেখতে পাওয়া যায় এই আবাজা ছাগল। মজবুত শরীর নিয়ে তীরের বেগে দৌড়াতে পারে এরা। একটাই সমস্যা এরা একটু জেদি। এদের নিজেদের মধ্যে লড়াই লেগে গেলে সহজে লড়াই ছাড়তে চায় না। মূলত মাংসের জন্য এদের পালন করা হয়। তবে এ ছাড়াও এদের দুধ দিয়ে তৈরি আবাজা চিজের  খ্যাতি আছে।

৫।  আলতাইঃআলতাই ছাগল

আলতাই ছাগল

রাশিয়া, কাজাকস্তান, মঙ্গোলিয়া, চীনের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত থাকা আলতাই পর্বতাঞ্চলে আলতাই নামক এই পাহাড়ি ছাগল পাওয়া যায়। এরা সাইবেরিয়ার কড়া ঠাণ্ডা সহ্য করে।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মূলত মাংসের জন্য এদের পালন করা হয়। কিছু পরিমাণে উলও পাওয়া যায় এদের শরীর থেকে।

৬। বিতালঃবিতাল ছাগল

বিতাল ছাগল

বিতাল ছাগলদের দেখতে পাওয়া যায় ভারত ও পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে। অনেকে এদের লাহোরী ছাগল বলেও ডেকে থাকেন। এদের  দূধ ও মাংসের আকাশছোঁয়া চাহিদা রয়েছে। উচ্চতা ও ওজনে বিশ্বের বেশিরভাগ ছাগলের থেকে এগিয়ে আছে এরা। এরা ওজনে ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এই প্রজাতির ছাগলের দাম দুই থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

৭। ডাচ ল্যান্ডরেসঃ

ডাচ ল্যান্ডরেস ছাগল

ডাচ ল্যান্ডরেস ছাগলটির উৎসভূমি হল হল্যান্ড। দুধ ও উলের জন্য এদের ব্যাপকভাবে পালন করা হয়ে থাকলেও সম্প্রতি এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে। যদিও এদের বিভিন্নভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা চলছে। প্রায় ১০০০ টি ছাগলকে সে দেশের ন্যাশনাল পার্কে রাখা আছে।

৮। লাল কালাহারিঃ

লাল কালাহারি ছাগল

লাল কালাহারি ছাগলের উৎস দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রচুর মাংস পাওয়া যায় বলে পশুপালকদের কাছে খুব চাহিদা এদের। কিন্তু এরা একটু বদরাগী। একটু তোয়াজ করে রাখতে হয়। প্রখর রোদ এড়ানোর জন্য এদের চামড়া  অপেক্ষাকৃত পুরু হয়।

৯। ভালাইসঃভালাইস ছাগল

ভালাইস ছাগল

সুইজারল্যান্ডের ছাগল ভালাইস। বর্তমানে অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতেও দেখতে পাওয়া যায় এদের। উল ও মাংসের জন্য পালন করা হয়ে থাকে। এদের শরীরের অর্ধেক অংশ সাদা ও অর্ধেক অংশ কালো। এ বৈশিষ্ট্য বিশ্বের অন্য কোনো ছাগলের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না।

১০। কাশ্মীরিঃ

কাশ্মীরি ছাগল

কাশ্মীরি ছাগল প্রজাতিটিকে বিভিন্ন ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশ ও অস্ট্রেলিয়া কৃত্রিমভাবে প্রজনন করিয়ে তাদের দেশের উপযোগী করে নিয়েছে। কাশ্মীরের গ্রামগুলিতে এই ছাগল পোষা হয়। এর থেকে দুধ মাংস ও উল পাওয়া যায়। প্রবল ঠাণ্ডাও এদের কাবু করতে পারে না।

১১। সিরোহিঃসিরোহি ছাগল

সিরোহি ছাগল

সিরোহি ছাগল ভারতের রাজস্থানে ও পাকিস্তানের কিছু অংশে দেখতে পাওয়া যায়। রাজস্থানের রাকা সম্প্রদায়ের মানুষজন মূলত এদের পালন করেন। লম্বা ও অদ্ভুতদর্শন এই ছাগলের দুধ অতি সুমিষ্ট। এদের চামড়া বিক্রি করে  ভালো  টাকা আয় করে থাকেন সেখানকার পশুপালকরা।

তথ্যসূত্রঃ ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচএফ



Source link