Home অন্যান্য লাইভ ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকার

ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকার

0
ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকার


ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকার অনেক খামারিরাই সঠিকভাবে জানেন না। দেশে মাংসের চাহিদা পূরণে বর্তমানে ব্যাপকহারে ব্রয়লার মুরগি পালন করা হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগি পালনের সময় বেশ কিছু সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আজকের এই লেখায় জেনে নিব ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকার সম্পর্কে-

ব্রয়লার পালনে কিছু সমস্যা ও তার প্রতিকারঃ


ব্রয়লার পালনে যেসব সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম সমস্যা হল-

১। গামবোরো রোগ

২। ওজনে পার্থক্য (একই বয়সের বাচ্চা কিছু দিন পর ছোট-বড় হওয়া)

৩। সমন্বয়হীন বাজারব্যবস্খা

৪। খামারিদের ওষুধ ব্যবহারের প্রবণতা।

গামবোরো রোগঃ


খামারি ভাইয়েরা গামবোরো রোগ নিয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। গামবোরো ভাইরাসের কারণে হয়। এই রোগের কার্যকরী কোনো চিকিৎসা নেই। তবে সময়মতো টিকা দেয়া থাকলে রোগ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এই রোগের আক্রমণ যদি ঘটেই থাকে তাহলে উন্নত ব্যবস্খাপনার মাধ্যমে মৃত্যুহার কিছুটা কমানো যায়। এই রোগে আক্রান্ত মুরগি খাদ্য ও পানি খাওয়া বìধ করে দেয়, পালক উসকো-খুসকো দেখায়। সাদা পাতলা ও দুর্গìধযুক্ত পায়খানা করে। শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে, হাঁটতে পারে না। অবশেষে মারা যায়। তবে এই রোগে মৃত্যুহার ৩০ ভাগের বেশি হয় না। থাইয়ের গোশতে রক্তের ছিটা দেখা যায়। একই বয়সের বাচ্চা প্রথমে বড় এবং পরে ছোট হয়ে যায়, বাচ্চা কাটলে ভিতরে রক্তের ফোঁটা দেখা যায়।

চিকিৎসাঃ


এই রোগের কার্যকরী কোনো চিকিৎসা নেই। প্রতিরোধ ব্যবস্থাই একমাত্র উপায়। গামবোরো রোগ দেখা দিলে মুরগির ঘরে খাদ্য ও পানির পাত্র বাড়াতে হবে। কারণ এই রোগে খাবারের প্রতি অরুচি হওয়ায় না খেয়ে দুর্বল হয়ে মুরগি মারা যায়। তাই খাদ্য ও পানি পাত্র এমনভাবে দিতে হবে যাতে ঘুরলেই খাদ্য পায়। এই রোগে অরুচি, ডিহাইড্রেশন এবং মুরগি না খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে বলে পানিতে ভিটামিন সি, স্যালাইন ও গ্লুকোজ মিশিয়ে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ছোট-বড় হওয়াঃ


প্রায়ই দেখা যায় একই ব্যাচে একই বয়সের ব্রয়লার বাচ্চা কিছু দিন পর কতকগুলো বেশ ছোট হয়ে গেছে। এর জন্য দৃশ্যমান অদৃশ্যমান অনেক কারণ জড়িত। যেমনন্ধ কৌলিকাত্ত্বিক কারণ, পরিবেশগত ও ব্যবস্থাপনাগত কারণ। দৃশ্যমান বা পরিবেশগত কারণের মধ্যে প্রথম থেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম খাদ্য ও পানির পাত্র থাকা। কারণন্ধ প্রথম সপ্তাহে বিশেষ করে এক-তিন দিন বয়স পর্যন্ত বাচ্চার চলাচল সীমিত থাকে এবং খাদ্য না চেনার কারণে খাদ্য খাওয়ায় তেমন প্রতিযোগিতা থাকে না। তাই এই সময়ে যেসব বাচ্চা এক বা দুই দিন খাদ্য ভালোভাবে খেতে পারে না সেগুলোই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে পরে খাদ্য খাওয়া প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে ছোট হয়ে যায়।

প্রতিকারঃ


মিশ্রিত গ্রেডের বাচ্চা না কিনে একই এ বা বি গ্রেডের বাচ্চা কিনতে হবে। বাচ্চা ছোট-বড় দৃশ্যমান হওয়ার সাথে সাথে আলাদা করে বিশেষভাবে যত্ন নিতে হবে। কাংখিত পরিমাণ খাদ্য ও পানির পাত্র দিতে হবে।


আরও পড়ুনঃ ব্রয়লার খামারে মুরগিকে সুস্থ রাখতে করণীয়


পোলট্রি  প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here