ঢাকামঙ্গলবার , ১৩ জুলাই ২০২১
  • অন্যান্য

ভুট্টার সাইলেজ তৈরি করার পদ্ধতি

admin
জুলাই ১৩, ২০২১ ৬:৪৯ অপরাহ্ন । ১২৫ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি

ভুট্টার সাইলেজ
সাইলেজ একটি ইংরেজি শব্দ। সাইলেজ শব্দের দ্বারা গো-খাদ্যের বেলায় সবুজ ঘাসের পুষ্টিমান অক্ষুন্ন রেখে একটি নির্দিষ্ট Ph এ সংরক্ষিত সবুজ ঘাসকে বুঝায়। সাধারণত সব ধরনের সবুজ ঘাসই অম্লতায় সংরক্ষণ করে সাইলেজ তৈরি করা যায়।

সংরক্ষণের ৪০দিন পর বছরের যে কোন সময় সংরক্ষিত ঘাস তুলে সরাসরি বা শুকনো খড়ের সাথে মিশিয়ে গরুকে খাওয়ানো যায়। বর্তমান সময়ে সাইলেজ নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। বার্মানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাঁচা ঘাস বা খড়ের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করা হয় এরং সারা বছরের ঘাসের চাহিদা পুরন করা সম্ভব হয়।
সাইলেজ কাকে বলে বা কী?

রসাল বা তাজা অবস্থায় ফুল আসার সময় সবুজ ও সতেজ ঘাসকে কেটে টুকরা টুকরা করে কেটে সেগুলো বায়ুরোধী অবস্থায় সংরক্ষণ করাকে সাইলেজ বলে। বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করতে সাইলোপিটে সংরক্ষণ করা হয়। গম, ভুট্টা, আলফা-আলফা, সরগম, নেপিয়ার সহ বিভিন্ন জাতের ঘাস, বিভিন্ন গাছেট পাতা, কলাগাছ ইত্যাদি থেকে উৎকৃষ্ট মানের সাইলেজে পাওয়া যায়। বার্মানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কাঁচা ঘাস বা খড়ের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করা হয় এরং সারা বছরের ঘাসের চাহিদা পুরন করা সম্ভব হয়।

সাইলেজ ব্যবহারের সুবিধা
এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সারা বছর গরুকে কম মুল্যে কাচা ঘাসের বিকল্প হিসাবে সরবরাহ করা যায়।
কাঁচা ঘাস বা খড়ের পুষ্টিগুণ বুদ্ধি করা যায়।
দীর্ঘ দিন পুষ্টিমান অক্ষুন্ন থাকে।
সঠিক সময়ে ঘাস কেটে সেগুলো কার্যকরী খাবার হিসাবে গবাদি পশুকে সরবরাহ করা হয়।

এতে হে এর তুলনায় কম পুষ্টিমান অপচয় হয়।
সাইলেজ তৈরির ফলে ঘাসের জমির সর্ব্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়।
সাইলেজ ঠান্ডা ও আদ্র আবহাওয়াতেও তৈরি করা যায়।
উৎপাদনে খুব একটা ঝামেলা হয় না।

কাঁচা ঘাসের সাইলেজ তৈরী পদ্ধতি
বর্ষা মৌসুমের সবুজ ঘাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয়াংশ বা পানি থাকে। এ ধরনের ঘাসে তেমন ভাল হয় না। এ সকল সবুজ ঘাস বা কলাগাছ-কুচির সঙ্গে শতকরা ১৫ – ২০ ভাগ শুকনো খড়ের স্তর দিতে হবে। এতে গুণাগুণ ভাল থাকবে এবং সাইলেজের নির্যাস চুইয়ে খড়ের খাদ্যমানও বৃদ্ধি করবে।

মাটির গর্ত তৈরি
কাঁচা ঘাসের সাইলেজ তৈরি করতে প্রথমে ঘাসের পরিমানের উপর নির্ভর করে একটি গর্ত খুরতে হবে। গর্তটি অবশ্যই উঁচু জায়গায় ( যেখানে পানি ঢুকতে না পারে) হতে হবে। গর্তের গভীরতা ৩ ফুট, প্রস্থের তলায় ৩ ফুট, মাঝে ৮ ফুট ও উপরে ১০ ফুট হবে। দৈর্ঘ্যের মাপ নির্ভর করবে ঘাসের পরিমাণের উপর। গর্তটির তলা পাতিলের মত সমভাবে বক্র থাকলে ঘাস চাপানো সহজ হবে।

পলিথিন ছড়ানো
মাটির সাইলোর চারদিকে পলিথিন মুড়ে করলে অবশ্যই নিশ্চিন্তে থাকা যায়। পলিথিন একদিকে বায়ুরোধী করে অন্যদিকে এর ময়েস্জার ঠিক রাখে। দুই গজ চওড়া ডাবল পলিথিনের ৮ – ৯ গজ হলেই ২০ ফুটের একটি সাইলো পিটের শুধু উপরের দিক বন্ধ করা যায়।

সাইলেজ তৈরি পদ্ধতি
ধাপে ধাপে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে খুব সহজেই ভালো মানের কাঁচা ঘাসের সাইলেজ বানান সম্ভব।
প্রথমে সবুজ ঘাসের শতকরা ৩ – ৪ ভাগ চিটগুড় মেপে একটি পাত্রে নিতে হবে। ঘন চিটাগুড়ের মধ্যে ১ঃ১ অথবা ৪ঃ৩ পরিমানে পানি মেশালে তবে ঘাসের উপর ছিটানো উপযোগী হবে।

এরপর পরতে পরতে সবুজ ঘাস এবং শুকনো খড় দিতে হবে। প্রতি পরতে ৩০০ কেজি সবুজ ঘাস এবং ১৫ কেজি শুকনো খড় দিতে হবে।
৩০০ কেজি ঘাসের পরতে পূর্বের হিসাবে চিটাগুড় ও পানির মিশ্রণ ঝরনা বা হাত দিয়ে সমভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। খড়ের মধ্যে কোন চিটাগুড় দিতে হবে না।
এভাবে পরতে পরতে ঘাস ও খড় আলাদা সাজাতে হবে। যত এঁটে ঘাস সাজানো হবে তত ভালো মানের তৈরী হবে।

এভাবে সাইলো ভর্তি করে মাটির উপরে ৪ – ৫ ফুট পর্যন্ত ঘাস সাজাতে হবে। ঘাস সাজানো শেষ হলে খড় দ্বারা পুরু করে আস্তরন দিয়ে সুন্দর করে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
সর্বশেষে ৩ – ৪ ইঞ্চি পুরু করে সমানভাবে সাইলোর উপরে মাটি দিতে হবে।

সাবধনতা
নিম্নোক্ত সাবধানতা অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে।
পানি জমে না এমন উঁচু স্থানে সাইলো বানাতে হবে। তা নাহলে পানি জমে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
· উপরের পলিথিন খুব ভালো ভাবে এঁটে দিতে হবে এতে কোন পানি সাইলোর মধ্যে ঢুকবে না।
· চিটাগুড় ও পানির এমনভাবে দ্রবন তৈরী করতে হবে যাতে আঠার মত ঘাসের গায়ে লেগে থাকে।
· ঘাস এবং খড় স্তরে স্তরে সাজাতে হবে এবং ফাঁকা জায়গাগুলো যথাসম্ভব বন্ধ করতে হবে।
· ঘাসের সাথে খুব বেশী পানি থাকালে ভালো মানের হবে না।

ভুট্টা ঘাসের সাইলেজ তৈরি পদ্ধতি
বিভিন্ন ধরনের ঘাস ও লতা-পাতা দিয়ে এটি তৈরি করা গেলেও ভুট্টা ও আলফা-আলফা দিয়ে তৈরি সাইলেজ অত্যন্ত উন্নত মানের হয়। এটি গবাদি পশু বিশেষ করে দুধাল গাভীর জন্য অত্যান্ত উপকারী। এই সংরক্ষিত ঘাসে বেশি পরিমাণে পুষ্টি উপাদান থাকে। ভুট্টার গাছের গোড়ার কালো দাগ আসার সাথে সাথে ভুট্টা কাটার উপযোগী হয়। এসময় ভুট্টা গাছে নরম মোচা থাকে এবং এ সময়ে ভুট্টা গাছের শুষ্ক পর্দাথের পরিমাণ ৩০-৩৫% হয়।

ভুট্টা গাছগুলোকে জমি থেকে ৫-৬ ইন্চি উঁচুতে কাটা হবে। এরপর এগুলোকে কেটে টুকরা টুকরা করতে হবে। টুকরা করা ভুট্টা গাছ গর্তে বায়ুরোধী অবস্থায় রেখে র্দীঘদিন সংরক্ষন করতে হবে। টুকরা করা ভুট্টা গাছগুলো ব্যাগের ভিতর ঢুকিয়েও সংরক্ষণ করা যায়।

বর্তমানে গর্তের পরিবর্তে পলিথিন দিয়ে তৈরি বড় আকারের ব্যাগে সংরক্ষণ করা হয়। এটি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। এভাবে সংরক্ষণ করলে কোনো পুষ্টি উপাদান না হারিয়ে র্দীঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পশুকে সরবরাহ করা যায়।

সালোপিট বায়ুরোধী করার উদ্দেশ্য। সাইলেজ তৈরির সময় ঘাস টুকরা-টুকরা করে কাাটা ও বায়ুরোধী করার উদ্দেশ্য গুলো হলো-
ঘাস কে চপিং করলে গাজনের জন্য বেশি পরিমাণে গাছের সুগার অবমুক্ত হতে পারে ।

সঠিক নিয়মে বায়ুরোধী হলে সুষ্ঠুভাবে গাঁজন সম্পাদনের ফলে প্রয়োজনীয় ল্যাক-টিক এসিড তৈরি হয়।
কোনো খাদ্য উপাদানের অপচয় হয় না।
সাইলেজ বায়ুরোধী পরিবেশে থাকলে এর পুষ্টি উপাদানের পরিমান অক্ষুন্ন থাকে। এবং ক্ষতিকর ইস্ট, মোল্ড, ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ থেকে র্দীঘদিন রক্ষা করা যায়।

ভালো সাইলেজের বৈশিষ্ট্য
ভালো মানের সাইলেজ তৈরি করতে না পারলে লাভের পরিবর্তে ক্ষতির পরিমান বেশি হবে। এতে গবাদিপশু অসুস্থ হওয়া থেকে শুরু করে নানান ধরনের সমন্যা তৈরি হয়। ভালো মান বিবেচনায় রাখতে হবে।
ড্রাই-মেটার ৩০%-৩৫% হতে হবে।
ময়েশ্চার কন্টেন্ট ৬৫%-৭০% হতে হবে।

ফাইনাল Ph লেভেল ৩.৭-৪.৭ হতে হবে।
কালার গোল্ডেন ব্রাউন হবে। অন্তত একটা ব্রাউনিশ ভাব থাকবে।
মুঠো করে চেপে ধরে ছেড়ে দিলে হাতে দুই চারটা টুকরা লেগে থাকলে বুঝবেন মান ভালো।

বেশী টুকরা হাতে লেগে থাকলে বুঝবেন ময়েশ্চার কন্টেন্ট বেশী এবং ড্রাই মেটার কম। আর তার মানে ভালো মানের নয়।
মিষ্টি ফারমেন্টেশনের গন্ধটা উপস্থিত থাকতে হবে।
কর্ণ সাইলেজে মিল্কিং কর্ণের টুকরা যথেষ্ট পরিমানে মিশ্রিত থাকতে হবে।

খাওয়ানোর নিয়ম
এভাবে সংরক্ষিত ঘাস প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের একটি গরুুর জন্য ১০ কেজি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। অন্যান্ন খাবারের সাথে মিশিয়েও এটি খাওয়ানো যায়। এটি গরুর কাছে খুবই প্রিয় খাদ্য। এটি সহজে হজম হয়। এটি খেলে গরুর ঘুম ভলো হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
ডা মো শাহীন মিয়া
ভেটেরিনারি অফিসার ঢাকা



Source link