ঢাকাশুক্রবার , ১৪ মে ২০২১
  • অন্যান্য

মাছের ফার্মেন্টেড ফিড তৈরিতে করণীয়

admin
মে ১৪, ২০২১ ৩:৫১ পূর্বাহ্ন । ১২১ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


মাছের ফার্মেন্টেড ফিড তৈরিতে করণীয় সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না। মাছ চাষে লাভবান হওয়ার জন্য মাছের শারীরিক বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর মাছের এই বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য। মাছের খাদ্য হিসেবে ফার্মেন্টেড ফিড অতুলনীয়। চলুন জেনে নেই মাছের ফার্মেন্টেড ফিড তৈরিতে করণীয় সম্পর্কে-

মাছের ফার্মেন্টেড ফিড তৈরিতে করণীয়ঃ


মাছ চাষে ফার্মেন্টেড ফিড বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা সাধারনত ২ ধরনের মাছ চাষ করি-

১। কার্প ফিসঃ কার্প ফিসের স্বাভাবিক গ্রোথের জন্য ২৪-২৫% আমিষ বা প্রোটিন দরকার। ৫০% frb & ৫০% fsy দিলে ২৯-৩২% প্রোটিন পাওয়া যাবে।

২। ক্যাটফিসঃ ক্যাট অর্থ বিড়াল, ফিস অর্থ মাছ। বিড়ালের গোফ আছে। যেসব মাছের গোফ বা দাড়ি আছে, সেইসকল মাছই ক্যাট ফিস নামে পরিচিত। ক্যাট ফিসের স্বাভাবিক গ্রোথের জন্য ৩০-৩৬% প্রোটিন দরকার। ৬৬%fsy & ৩৪% frb দিলে ৩৪-৩৭% প্রোটিন পাওয়া যাবে।

রাইচ-ব্রানঃ


প্রথমে ফুড গ্রেড পাত্র নিবেন। ১ কেজি ব্রান নিলে ৭৫০ মি.লি পানি নিবেন বা ২ কেজি ব্রান নিলে দেড় লিটার পানি। পানির সাথে ১৫/২০ গ্রাম চিটাগুড় ভাল ভাবে মিশিয়ে নিবেন (১ কেজি ব্রানের জন্য)। এর পর ৪/৫ গ্রাম ঈষ্ট ভাল ভাবে মিশিয়ে নিবেন। পরে পাত্রে ব্রান দিয়ে ভাল করে সব উপাদান একসাথে মিশিয়ে ফেলবেন। মিশ্রণ টি কাই বা পেষ্ট এর মত হবে।

এই মিশ্রণ ৩/৪ ঘন্টা পর পর উলট-পালট করে দিবেন। ঠিক ১২ ঘন্টা পরে পাত্রের মুখ এয়ার টাইট করে বন্ধ করে দিবেন। ১২ ঘন্টা পরে পাত্রের মুখ খুলে দেখুন সুন্দর এক্টা স্মেল চলে আসছে।

সয়ামিলঃ


প্রতি কেজি সয়ামিলের জন্য ৩.২৫ লিটার পানি নিবেন। ব্রানের মত করে একই ভাবে এটাও তৈরী করে নিবেন। তবে এখানে পেষ্ট এর মত হবে না। ফার্মেন্টেশন হয়ে গেলে এখানে কিছু পানি অবশিষ্ট থাকবে, এখান থেকে ১ বা ২ লিটার পানি রেখে বাকী পানিটা ফেলে দিবেন। এই ১বা ২ লিটার পানি পরবর্তী ব্যাচে দিয়ে দিবেন( সয়ামিলে)। তাহলে সয়ামিলে আর ঈষ্ট বা চিটাগুড় দেওয়ার দরকার হবে না।

এবার ২ টা উপাদান একসাথে মিশিয়ে আপনার সুবিধা মত,, খাদ্যদানী বা ট্রে অথবা বলের মত করে ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

সতর্কতাঃ


  • অবশ্যই ফুড গ্রেড পাত্র ব্যাবহার করতে হবে। মেটাল/ধাতব পাত্র এড়িয়ে চলবেন।
  • পাত্রের উপরের দিকে কিছু অংশ যেন ফাকা থাকে সেভাবেই পাত্র নির্বাচন করবেন।
  • প্রথম ১২ ঘন্টায় ৩/৪ বার উলট-পালট করে দিন।
  • কোন ভাবেই লবন পানি বা লবনাক্ত পানি ব্যাবহার করা যাবে না।
  • ছায়াযুক্ত, ঠান্ডাস্থানে রাখুন, সুর্যের আলো এড়িয়ে চলুন।
  • ফার্মেন্ট করা খাবার নিয়ে দেখুন মিষ্টি ঘ্রান আসে কিনা !
  • সয়ামিলের পানি থেকে ১ বা ২ লিটার পানি রেখে দিন, তাতে পরবর্তী ব্যাচে খরচ & শ্রম সাশ্রয়ী হবে।

ঈষ্ট ও মোলাসেস দেওয়াতে উক্ত সিষ্টেম টি ১২ ঘন্টায় ও ফার্মেন্ট হবে তবে ২৪ ঘন্টা করলে ভাল রেজাল্ট পাওয়া যায়।


আরও পড়ুনঃ কার্প জাতীয় রেনু মাছের চাষ পদ্ধতি


মৎস্য প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link