ঢাকামঙ্গলবার , ৪ মে ২০২১
  • অন্যান্য

যে বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিলে গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়ে

admin
মে ৪, ২০২১ ৭:১৬ পূর্বাহ্ন । ১৫১ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


যে বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিলে গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়ে সেগুলো খামারিদের সঠিকভাবে জানতে হবে। গাভী পালনে লাভবান হওয়ার জন্য দুধ উৎপাদন অধিক গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আমাদের দেশের অনেকেই গাভীর খামার করার মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন। চলুন তাহলে আজকে জানবো যে বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিলে গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়ে সেই সম্পর্কে-

যে বিষয়গুলোকে অধিক গুরুত্ব দিলে গাভীর দুধ উৎপাদন বাড়েঃ 


সুষম খাদ্যের সরবরাহঃ 


গর্ভবতী গাভীর জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্য সরবরাহ। এ সময় প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি প্রয়োজন। যা গাভীর নিজের জন্য ও বাছুরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গাভীর পুষ্টির উপর নির্ভর করে গাভীর দুধ উৎপাদন ক্ষমতা ও বাচ্চার দেহ গঠন। তাই গর্ভবতী গাভীকে বিশেষভাবে সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।

গাভীকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখাঃ


বাছুর প্রসবের পর গাভীকে সঠিকভাবে গোসল করাতে/ পরিষ্কার করতে হবে। শীতের দিন  হলে হালকা গরম পানি দিয়ে হলেও তা পরিষ্কার করতে হবে। যা দেহের বহিঃপরজীবী দূর করতে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। আর তাপমাত্রার সাথে দুধ উৎপাদন এর একটা সম্পর্ক রয়েছে।

 ড্রাই পিরিয়ড বৃদ্ধিঃ


ড্রাই পিরিয়ড বলতে সেই সময়কে বোঝায় যখন গাভীর বাছুর বড় হওয়ার পর থেকে পুনরায় গর্ভবর্তী হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়কে। এ সময় সাধারণত ৫০-৬০ দিন হলে ভালো হয়। এ সময়ে গাভীর তার দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং পরবর্তী বাছুরের জন্য নিজের দেহকে সুষ্ঠুভাবে তৈরি করতে পারবে। আজ এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ড্রাই পিরিয়ড বৃদ্ধি পেলে দুধ উৎপাদন বাড়ে।

পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহঃ


দেহের পরিপাক তন্ত্র সঠিকভাবে পরিচালিত হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সুষম পানি  প্রয়োজন। পানি দেহের পরিমিত পানি দেহের মেটাবলিজম সঠিক রাখে।

গাভীর বাসস্থান পরিচ্ছন্ন রাখাঃ


যে স্থানে গাভীকে রাখা হয় তার উপর গাভীর স্বাস্থ্য ও দুধ অনেকটা নির্ভর করে। ভালো ভ্যান্টিলেশন শুকনো ও স্যাঁতসেঁতে মুক্ত পরিবেশে গাভীকে রাখতে হবে। এতে করে লোমের অর্থাৎ সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকে। যা দুধ উৎপাদন সহায়ক।

বাছুর প্রসব কালের গাভীর পরিচর্যাঃ 


গাভীর বাছুর প্রসবকালে নিতে হবে বাড়তি পরিচর্যা। এ সময় গাভীকে নরম বিছানার (খড় বিছিয়ে) ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত বকনা গরুর ক্ষেত্রে প্রথম বাছুর প্রসবকালে সমস্যা একটু বেশি হয়। তাই বাছুর হওয়ার সাথে সাথে গাভীকে কিছু কুসুম গরম পানি ও তার সাথে ভিটামিন সি সদৃশ্য কিছু খাওয়াতে হবে। এতে করে গাভীর শরীর ঠিক থাকে।

ভিটামিন ও মিনারেল প্রিমিক্স খাওয়ানোঃ


বর্তমানে বাজারে অনেক ধরনের মিক্সড পাউডার পাওয়া যায়। যা ভিটামিন, মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে দুধ উৎপাদন বাড়ায়। ভিটামিন ডি বি’সহ বিভিন্ন নামে বাজারে পাওয়া যায়। যা খাবারের সাথে সরবরাহ করতে হয়। উপরোক্ত ব্যবস্থা ঠিকমতো গ্রহণ করলে দুধের উৎপাদন অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব। যা দেশের জাতীয় চাহিদা পূরণের একটি পদক্ষেপ বলে গণ্য হবে।

পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাসের সরবরাহ করাঃ 


গাভীর দুধ উৎপাদন  বাড়াতে কাঁচা ঘাসের কোনো বিকল্প নেই। সুষম খাদ্যের পাশাপাশি কাঁচা ঘাস দুধ উৎপাদন বাড়ায়। ঘাসের বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতিতে দুধ উৎপাদন বাড়ায়।


আরো পড়ুনঃ করোনায় দুধ নিয়ে বিপাকে পাবনার দুগ্ধ খামারিরা


লেখাঃ মোস্তাফিজুর রহমান


ডেইরি প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link