রংপুরে বুড়িরহাট হর্টিকালচারের রাজস্ব আয় ৩০ লক্ষাধিক টাকা

0
83
রংপুরে বুড়িরহাট হর্টিকালচারের রাজস্ব আয় ৩০ লক্ষাধিক টাকা


ফজলুর রহমান, রংপুরঃ রংপুরে উদ্যান ফসলের সম্প্রসারণ ও পুষ্টি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখানে বেড়েই চলছে বিভিন্ন জাতের চারা কলম ও উৎপাদন। দিন দিন উৎপাদিত চারার বিপণন ও বিক্রি বাড়ছে। এতে সরকারের রাজস্ব খাতে বেড়েছে বার্ষিক আয়। গত দুই অর্থবছরে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারে রাজস্ব আয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

২০০১-০২ অর্থবছরে যেখানে আয় ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪০ টাকা। বর্তমানে (২০২০-২১ অর্থবছর) তা বেড়ে ১৭ লাখ ৫ হাজার ৪১০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। শুধু আয়ই বাড়েনি, সময়ের ব্যবধানে এই সেন্টারে চারা উৎপাদন, কলম ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় ব্যাপকতা এসেছে। ২০ বছর আগে যেখানে অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ৭৮ হাজার ৩২৯ ছিল। এখন তা পৌঁছেছে ২৭ লাখ ৮ হাজার ১৮১-তে।

রংপুর শহর থেকে আট কিলোমিটার দূরে বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার। গঙ্গাচড়া উপজেলার আরাজী নিয়ামত প্রামে সাড়ে ২১ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফসলের জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি ফলদ, বনজ, ঔষধি গাছের চারা কলম ও রোপণ করা হয়।

এখান থেকে উৎপাদিত চারা ও বীজ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। এতে দেশের কৃষি, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চাহিদা অনেকাংশই পূরণ হচ্ছে এখান থেকে। উন্নত জাতের ফলের চারা, কলম, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ এবং জনপ্রিয়করণে সংশিস্নষ্ট সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন নিয়মিত। পাশাপাশি উদ্যান বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহযোগিতা এবং উন্নত জাতের ফল ও সবজির প্রদর্শনী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সবুজাভ এই হর্টিকালচার সেন্টারটি দেশি-বিদেশ গাছগাছালি, চারা আর ফুলে-ফলে ভরা। আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙা, জাম্বুরা, জলপাই, পেঁপে, ডালিম, আমলকী ও সুপারিগাছের চারার ছড়াছড়ি সেন্টারে। রয়েছে লটকন, জাবাটিকাবা, আতা, শরিফা, চালতা, কাজুবাদাম, নাশপাতি, ত্বীন, স্ট্রবেরি, পেপিনোমিলনের চারা। পুরো উদ্যানজুড়ে শোভাবর্ধনকারী গাছের সঙ্গে দোল খাচ্ছে প্রস্ফুটিত বাহারি রঙের ফুল। পাখির কিচিরমিচির শব্দ আর প্রজাপতির ওড়াউড়িও ফুটিয়ে তুলেছে বাড়তি সৌন্দর্য। উদ্যান কর্মকর্তা, কর্মচারী, মালিসহ সংশিস্নষ্ট সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের আয়তন ২১ দশমিক ৫০ একর। এর মধ্যে সাড়ে ১৩ একর জমিতে স্থায়ী মাতৃবাগান রয়েছে। ৩ দশমিক ১ একর জমিতে নার্সারি এলাকা। এ ছাড়া সেন্টারে পুকুর, বাঁশবাগান, সেচ ও নিষ্কাশন নালা, নার্সারি শেড, রা¯ত্মা, ডরমিটরি, অফিস, আবাসিক এলাকা, গ্যারেজ, পার্কিং এলাকা রয়েছে। বিশাল এই সেন্টারে ফল, সবজি, ঔষধি, মসলা, ফুল ও শোভাবর্ধনকারী চারা, কলম ও বীজ উৎপাদন করা হয়ে থাকে।

অর্থবছরে এই হর্টিকালচার সেন্টার থেকে ৩১টি ব্যাচে ৯০০ জন কৃষক ও বাগান উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যোগে উদ্যান পরিদর্শন ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৪ জাতের আম ও ৪ জাতের লিচু রয়েছে।

বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন akkbd.com কে বলেন, বারো মাস ফল দেবে, এটা নিয়ে আমরা গুরম্নত্ব সহকারে কাজ করছি। বিশেষ করে আম, লিচু, মাল্টা ও কমলার নতুন নতুন দেশি-বিদেশি জাত সংগ্রহ করেছি। একসময় আমাদের দেশে কমলা ও মাল্টা আবাদ হতো না। অথচ আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে মাল্টাকে আর বিদেশি ফল বলার সুযোগ থাকবে না। এটি দ্রম্নত সময়ের মধ্যে দেশি ফলে পরিণত হবে।

বুড়িরহাট হর্টিকালচার সেন্টার এর উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন আরো বলেন, বর্তমানে বারি-৪ আমের চাহিদা বেশি। কারণ, দেশি আমের তুলনায় অনেক দেরিতে এই আম পাকে এবং দামও অনেক বেশি। এ ছাড়া লেবুর নতুন জাত সিডলেজ চায়না-৩-এর চাহিদা বেড়েছে। এটি সারা বছরই উৎপাদিত হয়। থোকায় থোকায় লেবু ধরাতে অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন সম্ভব। এই লেবুর জাতটির চারা কলম করে এ বছরই কৃষকদের মধ্যে বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

Credit: Source link

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে