ঢাকামঙ্গলবার , ১৭ অগাস্ট ২০২১
  • অন্যান্য

হাঁস পালন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

admin
অগাস্ট ১৭, ২০২১ ১০:১১ পূর্বাহ্ন । ১০৪ জন
Link Copied!
agrilive24.com অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন আমাদের ফেসবুক পেজটি


হাঁস পালন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর হাঁস পালনকারীদের সঠিকভাবে জেনে রাখা দরকার। বর্তমানে দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকহারে  হাঁস পালন করা হচ্ছে। হাঁস পালনের মাধ্যমে অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। চলুন আজকে জানবো হাঁস পালন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে-

হাঁস পালন সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তরঃ 


১। হাঁসের থাকার জায়গা কেমন হওয়া দরকার?

উত্তরঃ গ্রাম্য পদ্ধতিতে হাসের থাকার ঘর সস্তায় এবং সহজে বানানো যায়। দিনের বেলায় হাঁস পুকুরে, ডোবায় চরে বেড়ায়। রাতে থাকার জন্য খড়ের চালের এক বা দুই চালাঘর-ই যথেষ্ট। ঘরের দেওয়ালের নীচের দিকে ২-৩ ফুট কাঠ বা মাটি দিয়ে ঘিরে দিতে হবে, যাতে দমকা হাওয়া না ঢোকে এবং অন্য কোনো বন্যপ্রাণী ভিতরে ঢুকে হাস মেরে না ফেলে। হাসপিছু রাতে থাকার জায়গা ২-৩ বর্গফুট (২ X ২ হাত) মাপের করতে হবে।

২। জমি বা জলাশয়ে ছেড়ে হাস পালনের সুবিধা কী কী?

উত্তরঃ আমরা সবাই জানি হাস মাঠে চরতে বা পুকুরে সাতার কাটতে ভালোবাসে। পুকুর বা জলাশয় থাকলে হাস নিজেদের খাবার নিজেরাই যোগাড় করতে পারে। সেক্ষেত্রে আলাদা করে অল্প খাবার দিলেই চলবে। এজন্য পুকুরে ছেড়ে হাস পালন করলে খাবারের খরচ বেশ কমে যায়। তাই বাড়ির আশেপাশে পুকুর বা ডোবা থাকলে হাস পালনে অনেক সুবিধা।

৩।  ডিপ লিটারে হাঁস পালনের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি কী কী?

উত্তরঃ ডিপলিটার পদ্ধতিতে হাসের চরবার জন্য পুকুর বা জলাশয় লাগে না। শুধুমাত্র থাকবার জায়গা ও স্নান করার জন্য ৪ ইঞ্চি থেকে ৯ ইঞ্চি গভর ও ১ ফুট (১ হাত) চওড়া জলযুক্ত নালা থাকা দরকার। কেননা হাসেরা জলে যদি ভালোভাবে মাথা ডেবাতে না পারে তবে তাদের চোখের ক্ষতি হয়। এমনকি অন্ধও হয় যেতে পারে। অবশ্য এই ব্যবস্থায় পুরোপুরি ম্যাস-জাতীয় খাবার দিতে হয়। ফলে হাস পোষার খরচ অনেকটা বেড়ে যায়। তাহ দানার সঙ্গে পাতা ও সক্তি মিশিয়ে খাওয়ালে খাবারের খরচ অনেকটা কমানো যেতে পারে।

৪। হাঁসের খাবার কীভাবে দিতে হয়?

উত্তরঃ হাঁসের খাবারের দিকে বিশেষ করে নজর দিতে হবে। প্রতিটি হাসের জন্য খাবারের জায়গা ৪-৬ ইঞ্চি হবে। পরিষ্কার অ্যালুমিনিয়াম বা টিনের থালা খাবারের পাত্র হিসাবে ব্যবহার করা যায়। জল মিশিয়ে বা ভিজিয়ে খাবার দিলে নষ্ট কম হবে এবং হাস সহজেই গিলতে পারবে। খোলা জায়গায় হাস পালন করলে সকালে এক বার এবং বিকালে হাসকে ঘরে তোলার আগে এক বার মোট দুই বার অল্প অল্প করে খাবার দতে হবে। একেবারে আবদ্ধ অবস্থায় (ডিপলিটার) পালনে মোট খাবার তিন বারে ভাগ করে দিতে হবে। দেখা গেছে হঠাৎ কোনো খাবার পরিবর্তন করলে হাসের ডিম দেওয়াও কমে যায়।

৫। হাঁসকে কতটা পরিমাণে খাবার দিতে হয়?

উত্তরঃ এক দিন থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের খাকি ক্যাম্পবেল হাসের কতটা খাবার লাগবে তার গড় পরিমাণ দেওয়া হল।

১ দিন থেকে ১ মাস বয়স পর্যন্ত প্রতিটি হাসকে কমবেশি দেড় কেজি ডাক স্টাটার ম্যাস খাওয়াতে হবে। ১ মাস থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত হাসকে কমবেশি ১৫ কেজি ডাক গ্রোয়ার ম্যাস খাওয়াতে হবে। ৬ মাস পরের থেকে ডিম পাড়ার হারের ওপর নির্ভর করে হাস পিছু দৈনিক ১৫০-১৭০ গ্রাম ডাক লেয়ার ম্যাস, এবং ১৫০-২০০ গ্রাম কোনো সবজি বা পাতা খাওয়ানো ভালো।


আরও পড়ুনঃ খামারে ভালো মানের মুরগি পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ


পোলট্রি প্রতিবেদন / আধুনিক কৃষি খামার

Credit: Source link